শূন্য আয়নার ছবি

শৌভিক দত্ত



এক
সুখপাঠ্য ভাঙ্গার সময় কিরকম চৌচির শব্দ হয় দেখেছো ?জল ও কুমীরের এই যে পারস্পরিক সহবাস, বোতল গড়িয়ে যাওয়া দুপুরের বিজ্ঞাপন,ছৠ‹à¦Ÿ হতে হতে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে বড়ো দেখানোর এই যে যাতায়াত, মাঝামাঝির এই মেরুকরণের মাপদণ্ডে রক্তশূন্য কিছু ঘাস, পাল্টি খাওয়া রাস্তাঘাটৠর আদলে রাখা ফুস্ফুস,বিঠ্রীর জন্য তৈরি থাকে সবসময়।সহমত ও অসহমত আমার প্রতিদ্বন্ দী নয়। চোখের ভেজা অংশে কড়কড় করে বালি ও দোনলাবন্দৠক। ছুঁয়ে দিলেই ছাপ এঁটে যাবে, এই ভয়ে সকাল বন্ধ করি না।এক দখলদারের ভূমিকায় নিজেকে রাখি প্রতিটি বৃক্ষের সমতলে।বৃতৠত ঘুরে অপরাধবোধ ছাপিয়ে উঠে কানায় কানায়।স্মৠতি মোচড়াতে মোচড়াতে শুনতে পাওয়া যায় ক্লান্ত এক ঘোড়ার নিক্বণ। আর কলমে যখন বোবা ভাষারা নোঙর ফেলে,এক ধারালো মীমাংসার দিকে হেঁটে যাওয়ার অপেক্ষায় নিজেকে খুলতে খুলতে শূন্য হয়ে উঠি।

দুই
বিশ্বাসবাব ু আমার প্রতিবেশী ছিলেন।বিচঠ¿à¦¤à§à¦° লোক। বিচিত্র জীবিকা তার।প্রথম জীবনে ধর্মের ব্যবসা শুরু à¦•à¦°à§‡à¦›à¦¿à¦²à§‡à¦¨à¥¤à ¦—েরুয়া পোশাক পরে থাকতেন সবসময়।সাদা ও à¦•à¦¾à¦²à§‡à¦­à¦¦à§à¦°à§‡à ¤ সেই ব্যবসা এতোটাই জনপ্রিয় হয়েছিল যে এখনও পাড়ার লোক শুধু নয় সারা শহরের লোক তাঁর দোকানের গুণগান গেয়ে থাকে।কিছু নিন্দুক যদিও বলত যে ব্যবসায় জল মিশিয়ে বিশ্বাসদা জনগণের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে à¦¨à¦¿à§Ÿà§‡à¦›à§‡à¦¨à¥¤à¦•à ¦¿à¦¨à§à¦¤à§ পাড়ার লোকজন তখন এমন প্যাঁদানি দিয়েছিল যে সেই নিন্দুকেরঠ¾ যেন কিভাবে কিছুদিনের মধ্যেই হাওয়া হয়ে জায়,অথবা মিনমিনে হয়ে পড়ে থাকে।
যাই হোক, এবার বিশ্বাসবাব ুর ইচ্ছে হলো,পন্যসাঠ®à¦—্রীর ব্যবসা করবেন।চাল,à ¡à¦¾à¦², বেশভূষা থেকে মেয়েদের প্রসাধনী পর্য্যন্ত। কোম্পানীও গড়া হলো জথারিতি।দৠশে তখন টিভি এসে গেছে।টিভি খুললেই বিশ্বাসবাব ুর কোম্পানীর বিভিন্ন পণ্যের বিজ্ঞাপন,সৠন্দরী মডেল, খবরের কাগজ জোড়া বিশ্বাস বাবুর মুখ।
ধর্ম ব্যবসা তো ছিলই। সেই সঙ্গে পণ্যের ব্যবসাতেও অপ্রতিদ্বঠ্দ্বী হয়ে উঠলেন বিশ্বাসবাব ু।তাঁর মুনাফাও চরম সীমায় পৌঁছে গেল।যদিও এবারও কিছু ফড়ে নিন্দুকরা বলাবলি শুরু করল,à¦•à§à¦·à¦®à¦¤à¦¾à ¸à§€à¦¨ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন ও দহরম মহরম থাকার কারণেই নাকি বিশ্বাসবাব ুর এতো বাড়বাড়ন্ত। তা ছাড়া তাঁর পণ্যের কোয়ালিটিও নাকি খুব নিম্নমানেঠ।অভিযোগ বাড়তে বাড়তে এমনকি আদালত পর্যন্ত গড়াল।তবে যা হয় আর কি,আদালতের আশীর্বাদে বিশ্বাস বাবুর ক্লিনচিট পেতে কোনও অসুবিধা হল না।

তিন
প্রচুর বিত্ত ও সম্মানের অধিকারী হয়ে বিশ্বাসবাব ুর নিজের প্রতি বিশ্বাস আরও বেড়ে à¦—à§‡à¦²à¥¤à¦­à¦¾à¦¬à¦²à§‡à ¨,এবার রাজনীতির ব্যবসায় নেমে পড়লে কেমন হয়? ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে তাঁর উঠবস তো আছেই।তাদে ¦° দিয়ে নিজের সপক্ষে একের পর এক বিল পাশ করিয়ে à¦¨à¦¿à¦šà§à¦›à§‡à¦¨à¥¤à¦†à ° জনগণ তো ভেড়ার পাল।তবে নিজেই ক্ষমতায় বসা যাক না কেন?à¦¨à¦¿à¦°à§à¦¬à¦¾à šà¦¨à§‡ জয় নিয়ে তাঁর কোনও সন্দেহ নেই।জেতা স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। যেই ভাবা সেই কাজ।বিশ্বঠসবাবু প্রস্তুতি শুরু করলেন।
à¦¨à¦¿à¦°à§à¦¬à¦¾à¦šà¦¨à§‡à ° আর মাত্র এক মাস বাকী।বিশ্ঠ¬à¦¾à¦¸à¦¬à¦¾à¦¬à§à¦° ভোটের প্রচারও চলছে জোরকদমে। ইতিমধ্যেই দশখানা সভা করে ফেলেছেন। এমন সময় খবর এলো,কোথাকা ¦° কোন এক সত্য বলে ছোকরা লোকজনের কাছে তাঁর নামে আজেবাজে কথা রটিয়ে à¦¬à§‡à§œà¦¾à¦šà§à¦›à§‡à¥¤à ¤à¦¾à¦° সঙ্গী হয়েছে প্রমাণ মানের আর এক ফচকে ছোঁড়া। এই দুজন লোকজনকে তাঁর সব গোপন কেলেঙ্কার ¦¿ ফাঁস করে দিচ্ছে।আর কী আশ্চর্য! এতদিনের বাধ্য লোকজন বিশ্বাসও করছে এদের কথা। বিভিন্ন জায়গায় জনগণ বিশ্বাসবাব ুর বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছে, প্ল্যাকারৠড নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়েছে। বিশ্বাসবাব ু রেগে আগুন হয়ে যান।নির্বা চন সামনে।তাঁঠবিরুদ্ধে কথা বলার সাহস,রুখে দাঁড়ানোর সাহস এরা পায় কি করে?পয়সার জোরে সরকার,মিডিৠŸà¦¾, বিচারব্যবস ্থা সবার মুখ বন্ধ করে দিয়েছেন এবার জিতলে এইসব à¦¦à§‡à¦¶à¦¬à¦¿à¦°à§‹à¦§à§€à ¦à§‡à¦° মুখ কিভাবে চিরতরে বন্ধ করে দিতে হয় তা তাঁর জানা à¦†à¦›à§‡à¥¤à¦¸à¦®à¦¸à§à¦¯à ¾ হলো, দেশে এখনও সংবিধান আছে বলে এই দুই ছোকরা ও তাদের à¦¸à¦¾à¦™à§à¦—à§‹à¦ªà¦¾à¦™à §à¦—োদের পুলিশ বা তাঁর পোষা গুণ্ডাদের দিয়ে পৃথিবী থেকে সরিয়েও দিতে পারছেন না।

চার
বিশ্বাসবাব ুর কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমে ওঠে।জনমত আস্তে আস্তে তাঁর বিরুদ্ধে চলে যাচ্ছে বুঝতে পারেন।বুঝঠে পারেন, বিশ্বাসযোঠ্যতা হারিয়ে ফেলছেন ক্রমশ।পুঁঠির এই অন্ধ রাস্তায় দৌড়োতে দৌড়োতে নিজের শরীরের কথা মনে হয়নি এতদিন।এখন আয়নায় নিজেকে লক্ষ্য করে আঁতকে ওঠেন। মনে হল, ক্ষতচিহ্ন বুকে নিয়ে যেন একটা ধ্বংসাবশেঠ· দাঁড়িয়ে রয়েছে। চোখের নীচে কালি ঝুলি,মেদবহৠà¦² ভুঁড়ি, চেহারায় ক্লান্তি আর অবসাদের চিহ্ন স্পষ্ট।বুঝ লেন জরা এসে গ্রাস করেছে à¦¶à¦°à§€à¦°à¦•à§‡à¥¤à¦®à¦¨à ‡ হলো,যদি আরও একবার প্রথম থেকে শুরু করা যেত।মনে হলো,যদি জীবন সুযোগ দিত à¦†à¦°à§‡à¦•à¦¬à¦¾à¦°à¥¤à¦•à ¦¿à¦¨à§à¦¤à§ সামনে নির্বাচন।য দি হেরে যান,হেরে যাবেন ?বিশ্বাসবাঠুর বিশ্বাস হয় না কিছুতেই।

বিশ্বাস হারাতে হারাতে একদিন টপ করে মরে যান বিশ্বাসবাব ু।